, , ,
h9090
ব্রেকিং নিউজ
  • বরিশালে বিএনপি’র মিছিলে পুলিশের বাধা
  • বরিশালে শিক্ষকদের প্রতিবাদ সভা
  • হিজলায় এক রাতে তিন ঘরে ডাকাতি
  • উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে ৩ লক্ষাধীক টাকার অবৈধ জাল আটক
  • বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক -১

Notice: Undefined variable: dexc in /home/barisalmail24/public_html/wp-content/themes/newspaper.bak/inc/retrive_functions.php on line 279

Notice: Undefined variable: cexc in /home/barisalmail24/public_html/wp-content/themes/newspaper.bak/inc/retrive_functions.php on line 282
Add
Friday, June 26, 2015 5:02 pm
A- A A+ Print

বরিশাল বেতারের সুফল বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি শ্রোতা

মামুনুর রশীদ নোমানী :

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন অকার্যকর করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল কেন্দ্রটি। এইসব অরাজকতায় পড়ে দিনের পর দিন বেতার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি মানুষ। আবার এর সাথে যোগ হয়েছে প্রকৌশলী শাখার অদক্ষতা, দুর্নীতি, অনিয়ম, গাফিলতি উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনা। ফলে বরিশাল কেন্দ্রের সম্প্রচারিত সংবাদ ও আবহাওয়া বার্তাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়ে  কেন্দ্রটির উপর থেকে আস্থা হারাতে বসেছে এলাকাবাসী। লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েও কোন সুফল পায়নি বলে শ্রোতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে দিনের পর দিন তা  অকার্যকর করে শ্রোতাদের  চাহিদাকে উপেক্ষা করে চলেছেন। আর  সেবা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে বেতারের উপর নির্ভরশীল দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় কয়েক লাখ মানুষ। বেতারটি অকেজো থাকায় সম্প্রচারিত সংবাদ ও আবহাওয়া বার্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা দীর্ঘদিন শুনতে পাচ্ছে না। শ্রোতারা অভিযোগ আকারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও কোন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। আবার বর্ষাকালে ঝড়ের পূর্বাভাস উপকূলীয় নাগরিকদের জানাতে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় নি। ফলে অবহেলিত দক্ষিণের মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং হতাশা বিরাজ করছে। প্রাকৃতিক ঝড় জলোচ্ছ্বাসে সর্তক সঙ্কেত না পেয়ে ক্রমান্নয়ে ক্ষুব্ধ উপকূলী বাসী বাধ্য হয়েই মিডিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছেন। একই সাথে তারা বরিশাল বেতার কেন্দ্রটির সংস্কার এবং গণমূখি করে তুলতে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন। বেতারটির এই বেহাল অবস্থা একদিনে হয় নি।বরং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং দায়বদ্ধতার অভাবে আজ কেন্দ্রটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ১০.৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫.১৫ মিনিট পর্যন্ত সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ বেতারের  বরিশাল কেন্দ্রটি। শুরুতে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার দিয়ে চালানো কার্যক্রম বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, ঝালকাঠী পর্যন্ত কয়েকটি উপজেলায় বেতার শোনা যেত। শ্রোতাদের চাহিদার দিকে লক্স্য করে এবং তা পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে  ২০১৩ সালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়। যার মধ্যে ১০৫ মেগাহার্টজ দিয়ে চালু করা হয় এফ.এম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ মানুষ  সেবার আওতায় আসেন।  তবে যাদের এই সেবা বেশি প্রয়োজন বিস্ময়কর ভাবে তারা সেবা বঞ্চিত থেকে যান।বিশেষ করে উপকূলীয় পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, বাউফল, কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বরগুনার আমতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সমুদ্র সংকেত শুনতে পান না। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরাও এই সেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া ইউনিসেফের সহায়তায় পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, বরগুনার আমতলীতে বিভিন্ন ক্লাবের কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি বরিশাল বেতার নিয়মিত প্রচার করলেও তা শ্রোতারা যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে  শুনতে পান না। ১৯৯৯ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয় । কৃষিনির্ভর ও সাগর-নদী বেষ্টিত জন গোষ্টিকে কৃষি ও জলবায়ু সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বরিশালের রূপাতলীতে স্থাপিত হয় বরিশাল বেতারের আঞ্চলিক অফিসটি।বরিশালের শ্রোতাদের পাশাপাশি মাদারীপুর,ভোলা,পিরোজপুর থেকে বরিশাল বেতারের কোন অনুষ্ঠান শুনতে পান না। বরিশাল বেতারের প্রচার ক্ষমতা  এখন ২০ কিলোওয়াট। অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় মিডিয়াম ওয়েভ ২৩৩। ১০ মিটারে ১২৮৭ কিলোহার্টজে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার পরিধির ব্যাসার্ধ ১০০ কিলোমিটার হলেও বাস্তবে ৫০ কিলোমিটারের বেশি এর সম্প্রচার নেই। অথচ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের যে বিশাল জনগোষ্ঠী নদ-নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে তাদের কানে আবহাওয়া বার্তা পৌঁছে দেয়ার মূল লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক এ কার্যালয়টি। বর্তমানে জেলেরা যেসব এলাকায় মাছ শিকারে যায় তার দুরত্ব ১০০ কিলোমিটারের বেশি। বরিশাল কেন্দ্রের আবহাওয়া বার্তা ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তা কখনোই শুনতে পায় না মৎস্য শিকারে যাওয়া জেলেরা। এসব যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধান করে বেতারকেন্দ্রটির সম্প্রচার অব্যাহত রাখার জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হলেও তা কোন কাজে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, বেতারের প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বরত প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাসবরাদ্ধ অর্থের নয় ছয় করে নিজের পকেট ভরেছেন।এমন কি কম্পিউটারের খুচরা যন্ত্রাংশ গুলো বাজারে বিক্রি করে তিনি সরকারি অর্থে নিজের আখের গুছিয়েছেন। এবিষয়ে শিল্পিদের লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অফিসের অর্থ দিয়ে কোন মেশিনারিজের পার্টস ক্রয় করা হয়না । প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ অফিসে বসে জমির দালালীতে ব্যস্ত থাকেন সব সময় । এছাড়া আব্দুল্লাহ নুর, সাকলায়েন ও মহিউদ্দিনের বেতার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে বাস্তব ধারনা না থাকায় বেতারের যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার নানা অভিযোগ রয়েছে। অদক্ষতার কারনে ইতিমধ্য পুড়ে গেছে দামী এবং গুরুত্বপুর্ন যন্ত্রাংশ । বেতারটির সম্প্রচার অবস্থা এতটাই করুন যে, বেতার কেন্দ্রে বসেও সুন্দর মত বরিশাল কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান গুলো ঠিকমত শোনা যায় না। গণসচেতনা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ করে,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা, শিশু ও নারী, ক্রীড়া, গান, নাটকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টার জাতীয় সংবাদ ও নিজস্ব ৫ মিনিটের একটি আঞ্চলিক বাংলা সংবাদ প্রচারিত হয়। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, দিনবদলের সনদ, ভিশন- ২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আইটি বিশ্ব, মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, উন্নয়নে বাংলাদেশ, আবহাওয়া বার্তা, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, নারী ও শিশু পাচার রোধ, জঙ্গীবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধীদের বিচার, দারিদ্র বিমোচন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন, পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান ছাড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি, কৃষি, পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পণা, বরিশালের ইতিহাস ঐতিহ্য, সঙ্গীত, শিশু-কিশোর, তরুণ সমাজ, মহিলাদের অনুষ্ঠান, নাটক, বাণিজ্যিক কার্যক্রমসহ প্রায় ৬০ ধরণের অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় এ কেন্দ্র থেকে  অথচ শ্রোতারা তা  শুনতে পান না। এ ব্যাপারে বরিশাল বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক বলেন,বাংলাদেশ বেতার, বরিশাল কেন্দ্র একটি মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অনুষ্ঠান প্রচার করে। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠান, বার্তা ও প্রকৌশল- এ ৩টি বিভাগ বরিশাল কেন্দ্রের রয়েছে। অনুষ্ঠান ও বার্তা বিভাগ দেখার দায়িত্ব আমার। সম্প্রচার এ কারিগরি সহায়তা কিংবা প্রেরন করার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের। তবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রতারা বেতারের অনুষ্ঠানমালা, আবহাওয়া বার্তা, সমুদ্রের বিপদ সংকেত শুনতে পান না মর্মে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন । এ ব্যাপারে বরিশাল বেতারের প্রকৌশল শাখার দায়িত্বরত প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস বলছেন, যন্ত্রগুলো পুরাতন হওয়ার কারণে একের পর এক সমস্য দেখা দিচ্ছে। যে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যায় বিরাজমান ত্রুটি অচিরেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
[fbcomments url="http://barisalmail24.com/archives/8137" count="on" num="5" countmsg="Comments!"]
 বরিশাল মেইল২৪.কম

বরিশাল বেতারের সুফল বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি শ্রোতা

Friday, June 26, 2015 5:02 pm
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন অকার্যকর করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল কেন্দ্রটি। এইসব অরাজকতায় পড়ে দিনের পর দিন বেতার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি মানুষ।

আবার এর সাথে যোগ হয়েছে প্রকৌশলী শাখার অদক্ষতা, দুর্নীতি, অনিয়ম, গাফিলতি উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনা। ফলে বরিশাল কেন্দ্রের সম্প্রচারিত সংবাদ ও আবহাওয়া বার্তাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়ে  কেন্দ্রটির উপর থেকে আস্থা হারাতে বসেছে এলাকাবাসী।

লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েও কোন সুফল পায়নি বলে শ্রোতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে দিনের পর দিন তা  অকার্যকর করে শ্রোতাদের  চাহিদাকে উপেক্ষা করে চলেছেন। আর  সেবা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে বেতারের উপর নির্ভরশীল দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় কয়েক লাখ মানুষ। বেতারটি অকেজো থাকায় সম্প্রচারিত সংবাদ ও আবহাওয়া বার্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা দীর্ঘদিন শুনতে পাচ্ছে না। শ্রোতারা অভিযোগ আকারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও কোন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। আবার বর্ষাকালে ঝড়ের পূর্বাভাস উপকূলীয় নাগরিকদের জানাতে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় নি। ফলে অবহেলিত দক্ষিণের মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং হতাশা বিরাজ করছে। প্রাকৃতিক ঝড় জলোচ্ছ্বাসে সর্তক সঙ্কেত না পেয়ে ক্রমান্নয়ে ক্ষুব্ধ উপকূলী বাসী বাধ্য হয়েই মিডিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছেন। একই সাথে তারা বরিশাল বেতার কেন্দ্রটির সংস্কার এবং গণমূখি করে তুলতে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।

বেতারটির এই বেহাল অবস্থা একদিনে হয় নি।বরং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং দায়বদ্ধতার অভাবে আজ কেন্দ্রটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ১০.৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫.১৫ মিনিট পর্যন্ত সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ বেতারের  বরিশাল কেন্দ্রটি। শুরুতে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার দিয়ে চালানো কার্যক্রম বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, ঝালকাঠী পর্যন্ত কয়েকটি উপজেলায় বেতার শোনা যেত।

শ্রোতাদের চাহিদার দিকে লক্স্য করে এবং তা পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে  ২০১৩ সালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়। যার মধ্যে ১০৫ মেগাহার্টজ দিয়ে চালু করা হয় এফ.এম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ মানুষ  সেবার আওতায় আসেন।  তবে যাদের এই সেবা বেশি প্রয়োজন বিস্ময়কর ভাবে তারা সেবা বঞ্চিত থেকে যান।বিশেষ করে উপকূলীয় পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, বাউফল, কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বরগুনার আমতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সমুদ্র সংকেত শুনতে পান না। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরাও এই সেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া ইউনিসেফের সহায়তায় পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, বরগুনার আমতলীতে বিভিন্ন ক্লাবের কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি বরিশাল বেতার নিয়মিত প্রচার করলেও তা শ্রোতারা যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে  শুনতে পান না।

১৯৯৯ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ বেতারের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয় । কৃষিনির্ভর ও সাগর-নদী বেষ্টিত জন গোষ্টিকে কৃষি ও জলবায়ু সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বরিশালের রূপাতলীতে স্থাপিত হয় বরিশাল বেতারের আঞ্চলিক অফিসটি।বরিশালের শ্রোতাদের পাশাপাশি মাদারীপুর,ভোলা,পিরোজপুর থেকে বরিশাল বেতারের কোন অনুষ্ঠান শুনতে পান না।

বরিশাল বেতারের প্রচার ক্ষমতা  এখন ২০ কিলোওয়াট। অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় মিডিয়াম ওয়েভ ২৩৩। ১০ মিটারে ১২৮৭ কিলোহার্টজে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার পরিধির ব্যাসার্ধ ১০০ কিলোমিটার হলেও বাস্তবে ৫০ কিলোমিটারের বেশি এর সম্প্রচার নেই। অথচ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের যে বিশাল জনগোষ্ঠী নদ-নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে তাদের কানে আবহাওয়া বার্তা পৌঁছে দেয়ার মূল লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক এ কার্যালয়টি। বর্তমানে জেলেরা যেসব এলাকায় মাছ শিকারে যায় তার দুরত্ব ১০০ কিলোমিটারের বেশি। বরিশাল কেন্দ্রের আবহাওয়া বার্তা ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তা কখনোই শুনতে পায় না মৎস্য শিকারে যাওয়া জেলেরা।

এসব যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধান করে বেতারকেন্দ্রটির সম্প্রচার অব্যাহত রাখার জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হলেও তা কোন কাজে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, বেতারের প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বরত প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাসবরাদ্ধ অর্থের নয় ছয় করে নিজের পকেট ভরেছেন।এমন কি কম্পিউটারের খুচরা যন্ত্রাংশ গুলো বাজারে বিক্রি করে তিনি সরকারি অর্থে নিজের আখের গুছিয়েছেন।

এবিষয়ে শিল্পিদের লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অফিসের অর্থ দিয়ে কোন মেশিনারিজের পার্টস ক্রয় করা হয়না । প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ অফিসে বসে জমির দালালীতে ব্যস্ত থাকেন সব সময় । এছাড়া আব্দুল্লাহ নুর, সাকলায়েন ও মহিউদ্দিনের বেতার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে বাস্তব ধারনা না থাকায় বেতারের যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার নানা অভিযোগ রয়েছে। অদক্ষতার কারনে ইতিমধ্য পুড়ে গেছে দামী এবং গুরুত্বপুর্ন যন্ত্রাংশ । বেতারটির সম্প্রচার অবস্থা এতটাই করুন যে, বেতার কেন্দ্রে বসেও সুন্দর মত বরিশাল কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান গুলো ঠিকমত শোনা যায় না।

গণসচেতনা মূলক অনুষ্ঠান বিশেষ করে,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা, শিশু ও নারী, ক্রীড়া, গান, নাটকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টার জাতীয় সংবাদ ও নিজস্ব ৫ মিনিটের একটি আঞ্চলিক বাংলা সংবাদ প্রচারিত হয়।

সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, দিনবদলের সনদ, ভিশন- ২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আইটি বিশ্ব, মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, উন্নয়নে বাংলাদেশ, আবহাওয়া বার্তা, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, নারী ও শিশু পাচার রোধ, জঙ্গীবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধীদের বিচার, দারিদ্র বিমোচন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন, পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান ছাড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি, কৃষি, পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পণা, বরিশালের ইতিহাস ঐতিহ্য, সঙ্গীত, শিশু-কিশোর, তরুণ সমাজ, মহিলাদের অনুষ্ঠান, নাটক, বাণিজ্যিক কার্যক্রমসহ প্রায় ৬০ ধরণের অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় এ কেন্দ্র থেকে  অথচ শ্রোতারা তা  শুনতে পান না।

এ ব্যাপারে বরিশাল বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক বলেন,বাংলাদেশ বেতার, বরিশাল কেন্দ্র একটি মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অনুষ্ঠান প্রচার করে। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠান, বার্তা ও প্রকৌশল- এ ৩টি বিভাগ বরিশাল কেন্দ্রের রয়েছে। অনুষ্ঠান ও বার্তা বিভাগ দেখার দায়িত্ব আমার। সম্প্রচার এ কারিগরি সহায়তা কিংবা প্রেরন করার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের। তবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রতারা বেতারের অনুষ্ঠানমালা, আবহাওয়া বার্তা, সমুদ্রের বিপদ সংকেত শুনতে পান না মর্মে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন ।

এ ব্যাপারে বরিশাল বেতারের প্রকৌশল শাখার দায়িত্বরত প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস বলছেন, যন্ত্রগুলো পুরাতন হওয়ার কারণে একের পর এক সমস্য দেখা দিচ্ছে। যে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যায় বিরাজমান ত্রুটি অচিরেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সম্পাদকঃ মোঃ জিহাদ রানা।
গির্জ্জা মহল্লা,বরিশাল।
মোবাইল: ০১৭৫৭৮০৭৩৮৩
ইমেইল : barisalmail24@gmail.com
বরিশালের একটি ২৪/৭ অনলাইন নিউজ মিডিয়া।